বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং এরপরই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। পুনর্গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এ সময় পর্যন্ত বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ প্রণোদনা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আগের কাঠামোতেই বহাল থাকবে। দুই বছরের মধ্যে মূল বেতনের পূর্ণ সমন্বয় সম্পন্ন হলেও এসব অতিরিক্ত ভাতা ও সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে একযোগে কার্যকর করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একসঙ্গে সব সুবিধা কার্যকর করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রাজস্ব পরিস্থিতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেছেন, কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধির এই কৌশল বাস্তবসম্মত।
তার মতে, গত কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের আয় সে হারে বাড়েনি, ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে তাদের বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের কারণে একবারে বেতন-ভাতা বাড়ানোর সক্ষমতা সরকারের নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজও বলেছেন, মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় নবম পে-স্কেল প্রয়োজনীয় হলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত কৌশলী পদক্ষেপ।
জানা গেছে, নবম পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপারিশ অনুমোদনের পর জানা যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কারণ মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাবও থাকতে পারে।
এদিকে পেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশনের হার শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ খাতে কতটুকু বরাদ্দ ও সুবিধা কার্যকর করা হবে, তা এখন চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।